ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

মদনে নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ​

বর্তমান সংবাদ | মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

মদনে নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী  ​

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিশিয়াল প্রাক্কলন (Estimate) অমান্য করে ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হওয়ায় প্রথমে খুশি হলেও এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।

​নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার অংশে জরুরি ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয় ।

​অফিশিয়াল প্রাক্কলন অনুযায়ী, নদী তীর রক্ষায় ৫২ মিটার শক্ত কাঠের বল্লা (সোনালু, তেঁতুল বা জাম গাছ) ও ৮২ মিটার দৈর্ঘ্যজুড়ে কমপক্ষে ৪১টি ব্যারাক বাঁশের পাইলিং করা, ওয়ালিং পিস ২০ মিমি নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো, ২৫০ কেজি ওজনের ৩,১২৫টি জিও-ব্যাগ ডাম্পিং এবং ১৭৫ কেজি ওজনের ১,২১০টি জিও-ব্যাগ প্লেসিং করার কথা। এছাড়া এসব জিও-ব্যাগের ওজন শুকনো বালি দিয়ে মেপে নিশ্চিত করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

​কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্টিমেটের নিয়ম সম্পর্কে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের কিছুই জানানো হয়নি। ঠিকাদার তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন।

​বাগজান গ্রামের আব্দুল লতিফ, রাসেল ও সাগরসহ অনেকে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনে স্কুলের জায়গা ও একটি শ্রেণিকক্ষ ভেঙে গেছে। সংবাদ প্রকাশের পর পাউবো প্রায় ২০ লাখ টাকার ইমার্জেন্সি প্রজেক্ট দেয়। কিন্তু ঠিকাদার ও পাউবোর লোকজনের যোগসাজশে এস্টিমেট না মেনে কাজ করে টাকা উত্তোলনের পাঁয়তারা চলছে। সঠিক পাইলিং ও ওজন ছাড়া কাজ করলে আগামী বর্ষায় পুরো বাঁধ নদীতে ধসে পড়বে।"

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, "কাজ দ্রুত শুরু করায় আমরা আশান্বিত ছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার প্রকল্পের কোনো তথ্য আমাদের দেখাননি। শুধু একদিন আমাকে দিয়ে ৪৫৯টি ভেজা বালুভর্তি জিও-ব্যাগ গণনা করিয়েছেন।"

​প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের প্রতিনিধি উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, "ইমার্জেন্সি কাজে শুকনা বালু দেওয়া হয় না। ডাম্পিংয়ের সময় কিছু বস্তার ওপর বালু-মাটি পড়েছে, এগুলো সরানো সম্ভব না। এগুলো থাকলে ডাম্পিং একটু লুজ হবে।" ​তবে সরকারি প্রাক্কলনপত্রে স্পষ্টভাবে শুকনো বালি ভর্তি অবস্থায় জিও-ব্যাগের ওজন মাপার নির্দেশনা রয়েছে।

​নেত্রকোনা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্পের তদারককারী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না, সবকিছু এস্টিমেট অনুসারে হচ্ছে।" তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এটা আমি জানি না, স্যার জানেন।"

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জায়গাটি পরিদর্শন করে আমাকে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলবো। জানালে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 তবে,পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয়রা সরকারি অর্থের অপচয় রোধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত ও সিডিউল অনুযায়ী সঠিক কাজের দাবি জানিয়েছেন।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

Madrasatun Nur Al Islamiyyah Mossharrof Hossain
Tasneem Sinha
Projapoti Holdings Ltd
Link copied!