ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬,
বিচারকের ভূমিকা নিয়ে হতাশা

আদালতের রায়ের পরেও সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধ করছেন না আবেদ খান  

দৈনিক সবুজ নিশান | নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

আদালতের রায়ের পরেও সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধ করছেন না আবেদ খান  

ঢাকা : ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার পর বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ না করায় দৈনিক জাগরণের সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক আবেদ খানের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলা করেন একাধিক সাবেক কর্মচারী। মামলার বাদীরা হলেন— মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, মো. তাজুল ইসলাম, মো. খোকন মিয়া, মো. মোরসালিন, মো. সুজন আকন্দ, মো. মিজানুর রহমান ও শরিফুল। তাদের অভিযোগ, চাকরিচ্যুতির পর বারবার পাওনা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত বাদীদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য জাগরণ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, রায় বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাদীরা ফৌজদারি আইনে আবারও মামলা দায়ের করেন।

গত ০৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পৃথক পৃথক মামলায় আসামি আবেদ খান বন্ধের দিন গোপনে আদালতে এসে জামিন গ্রহণ করেন। এরপর থেকে একাধিক ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি।

গতকাল ১৩ জানুয়ারি চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সময় আবেদন করলে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাতে আপত্তি জানান। শুনানিকালে কোর্টের অনুমতি নিয়ে বাদীরা কথা বলতে চাইলে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রোকেয়া রহমান ওপেন কোর্টে বলেন, “আপনারা পারলে আবেদ খানের কাছ থেকে টাকা উঠায়ে নেন।”

শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল শ্রম আদালতের একজন বিজ্ঞ বিচারকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনে বাদীরা হতাশ হয়ে পড়েন। তারা জানান, আবেদ খান বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ও এদেশে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী একজন সাংবাদিক। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানি সিআইয়ের এজেন্ট বলা দালাল সাংবাদিকের কাছে আদালতের এমন সমীহ নীতি নতুন বাংলাদেশে চলতে পারে না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের ন্যায্য পাওনা আবেদ খানের কাছ থেকে উদ্ধার করে আদালত তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুক।

এ মামলার বাদী মোহাম্মদ আবু ইউসুফ মহামান্য বিচারকের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আবেদ খান স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পক্ষ নিয়ে সবসময় গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। এমন একজন ফ্যাসিস্টকে ক্রমাগত সুযোগ দিয়ে অবহেলিত ও অন্যায়ের শিকার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বিচারকের করা এমন মন্তব্য শিষ্টাচার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমার মতে, তিনি এই পদে থাকার যোগ্যতাও হারিয়েছেন।

আরেক বাদী তাজুল ইসলাম বলেন, আজকে বিচারক মহোদয়ের এমন মন্তব্যে আমরা মর্মাহত। আমরা জেনেছি, গত ২৭ জুন ২০২৪ তারিখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার এই বিচারকের উপর তুষ্ট হয়ে তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে পদোন্নতির দিয়ে এখানে বসিয়েছেন। এখন তিনি ফ্যাসিবাদের দোসরদের রক্ষার চেষ্টা করবেন- এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচারই আশা করছি। আমরা আমাদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন পাবো এই বিশ্বাস রাখি।

এমটিআই

দৈনিক সবুজ নিশান

Royal Haven Hotel
Link copied!