বিশ্বের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা অহরহ দেখতে পাই, পৃথিবীর এক প্রান্তে চকচকে অট্টালিকার বহর, অন্যদিকে কুঁড়েঘর ও বস্তিতে সজ্জিত এক দারিদ্র্যপীড়িত ভয়াবহ জগৎ। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা জানে না ক্ষুধা কী, তাদের জনগণ ভিক্ষুক চেনে না। অন্যদিকে আফ্রিকার মানুষ জীবন বাঁচানোর তাড়নায় মাটি খেতেও দ্বিধা করে না।
উন্নত বিশ্বে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকার ট্রফি। অন্যদিকে আফ্রিকার কোনো মানুষের কাছে এক টুকরা খাবারই হীরার চেয়েও বেশি মূল্যবান। জাপান, কানাডা, সুইজারল্যান্ডের মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে লড়াই করে ব্যর্থ হয়ে মারা যায় না। বরং উন্নত বিশ্বের অনেক মানুষ আত্মার সঙ্গে লড়াই করে হেরে আত্মহত্যা করে।
একদিকে উন্নত বিশ্বের বহু মানুষ জীবনের সামান্য টানাপোড়েনে বাঁচতে চায় না, অন্যদিকে হতদরিদ্র ও ক্ষুধায় কাতর মানুষগুলো বাঁচতে চেয়েও বাঁচতে পারে না। নিষ্ঠুরতম পৃথিবীর এ এক ভীষণ কঠোর বাস্তবতা।
আমরা প্রায়ই বলি, দিনে দিনে, কালে কালে পৃথিবীর উন্নয়ন ঘটছে। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ যতই সময় অতিবাহিত হচ্ছে, অর্থশালী দেশগুলো আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী হচ্ছে। আর দুর্বল দেশগুলোর অবস্থান আরও নিচে নেমে যাচ্ছে।
প্রতিযোগিতার এই পৃথিবী সবসময় বিজয়ের দিকেই লক্ষ্য রাখে। কেউ কারও জন্য জায়গা ছেড়ে দেয় না, কাউকে উঠে আসার সুযোগও দেয় না। মানুষ ছাড়া পুরো পৃথিবীর আর কোনো প্রাণীর মধ্যে এমন সম্পর্ক দেখা যায় না।
পৃথিবীতে যুদ্ধ থামাতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনেক সংস্থা ও সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে। কিন্তু আমরা কি এমন একটি সংগঠনের স্বপ্ন দেখতে পারি না, যা শুধু ভিক্ষা দেবে না, বরং পৃথিবীতে ভারসাম্য সৃষ্টি করবে?
