ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বাস্থ্যখাতে চিন্তাধারার উন্নয়ন

বর্তমান সংবাদ | মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

স্বাস্থ্যখাতে চিন্তাধারার উন্নয়ন

ঢাকা : বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য কেবল হাসপাতাল, চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তির সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সামগ্রিক চিন্তাধারার পরিবর্তন। স্বাস্থ্যকে কেবল রোগ নিরাময় বা চিকিৎসার বিষয় হিসেবে না দেখে একে রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে সম্পৃক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। গড় আয়ু বৃদ্ধি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে; তবে নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগ, দূষণ এবং বৈষম্যের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। উদ্ভাবনী ও জনকেন্দ্রিক চিন্তাধারার বিকাশ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

১. চিকিৎসা থেকে রোগ প্রতিরোধের দিকে অগ্রসর হওয়া

স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো রোগ প্রতিরোধের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উচিত নয় মানুষ গুরুতর অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। বরং টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কসরত, স্যানিটেশন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সৃষ্টির আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনা উচিত।

টিকাদান এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অর্জনগুলো রোগ প্রতিরোধমূলক পদ্ধতির গুরুত্বকেই তুলে ধরে। বিশ্বব্যাপী জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেয়, যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

২. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হওয়া উচিত জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি। ব্যয়বহুল বিশেষায়িত হাসপাতালের ওপর তাৎক্ষণিক নির্ভরতা ছাড়াই মানুষের মৌলিক চিকিৎসা পরামর্শ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে উচ্চতর সেবার জন্য রেফারেল বা পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধের সরবরাহ, রোগ নির্ণয়ের সুবিধা, ডিজিটাল সংযোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করা সম্ভব। যেসব দেশে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, সহজলভ্য প্রাথমিক চিকিৎসা বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।

৩. স্বাস্থ্যকে মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা

স্বাস্থ্যকে কেবল বিত্তবানদের জন্য লভ্য কোনো বিশেষ সুবিধা হিসেবে না দেখে একটি মৌলিক মানবিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। দরিদ্র পরিবারগুলোকে যেন অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ, সরকারি হাসপাতাল এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’-এর মতো ব্যবস্থাগুলো দেখায় যে কীভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির আলোকে এ বিষয়ে নিজস্ব কর্মপন্থা গড়ে তুলতে পারে।

৪. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার ব্যবহার

ডিজিটাল প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। টেলিমেডিসিন, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, মোবাইল স্বাস্থ্য অ্যাপ, দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ (রিমোট কনসালটেশন), ডিজিটাল রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য-তথ্য বিষয়ক প্ল্যাটফর্মগুলো রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের জন্য টেলিমেডিসিন বিশেষত কার্যকর হতে পারে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা সীমিত। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো রোগী তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় না গিয়েই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে পারেন। ভারত ও এস্টোনিয়ার মতো দেশগুলো ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের প্রসার ঘটিয়েছে; তারা এমন সব উদাহরণ সৃষ্টি করেছে যা দেখায় যে, উপযুক্ত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা মান বজায় রেখেও কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

৫. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি

স্বাস্থ্য বিষয়ক দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মানুষের নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের প্রয়োজন। তাই স্কুল, কমিউনিটি, কর্মক্ষেত্র, গণমাধ্যম এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য শিক্ষাকে আরও জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বাংলাদেশ পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ পানি, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ওষুধের সঠিক ব্যবহার বিষয়ক তথ্য প্রদান করতে পারে। রোগ ছড়িয়ে পড়ার সময় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বা 'হেলথ লিটারেসি' নাগরিকদের রোগের লক্ষণ বুঝতে, উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে এবং বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য তথ্য এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে।

৬. অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের তালিকায় অসংক্রামক রোগ—যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা—কে আরও গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নগরায়ন, কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তামাকের সংস্পর্শ এবং পরিবেশ দূষণ এসব সমস্যার কারণ হতে পারে।

তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোগ নির্ণয় পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া উচিত। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলায় ব্যাপক জনস্বাস্থ্য কৌশল গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশও অনুরূপ প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক পদক্ষেপগুলো আরও জোরদার করতে পারে।

৭. মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতার সমন্বয়

স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনায় এটি স্বীকার করা প্রয়োজন যে, মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকীত্ব, পড়াশোনার চাপ, কর্মক্ষেত্রের জটিলতা এবং সামাজিক সমস্যা মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং কমিউনিটি পর্যায়ে কাউন্সেলিং ও উপযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য জরুরি। 

জনসচেতনতামূলক আলোচনার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্ষতিকর সামাজিক কুসংস্কার বা 'স্টিগমা' কমাতে হবে এবং প্রয়োজনে যোগ্য পেশাজীবীর সহায়তা নিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। অনেক দেশই এখন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সাথে মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করছে।

৮. মাতৃ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নারী, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ গর্ভাবস্থা, দক্ষ সেবায় সন্তান প্রসব, নবজাতকের যত্ন, টিকাদান, পুষ্টি, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা—এসবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে; তবে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ, উপকূলীয়, চরাঞ্চল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ধারাবাহিক মনোযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ পেশাজীবী, পুষ্টি কর্মসূচি এবং শিক্ষার সমন্বয় স্বাস্থ্যসেবার ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে। 

৯. স্বাস্থ্যকে পরিবেশ ও জলবায়ুর সাথে সংযুক্ত করা

পরিবেশগত পরিস্থিতি থেকে স্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বায়ু দূষণ, দূষিত পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অত্যধিক তাপমাত্রা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোগের ধরনে পরিবর্তন—এসবই জনজীবন বা জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই সংযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিকল্পনায় জলবায়ু-সহনশীল হাসপাতাল, জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি, নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, রোগ পর্যবেক্ষণ (সার্ভেইল্যান্স) এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে, পরিবেশগত পরিকল্পনা কীভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

১০. স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী ও গবেষণায় বিনিয়োগ

চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক এবং অন্যান্য পেশাজীবীরাই হলেন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশে এদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন, নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ এবং গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, জলবায়ু-জনিত স্বাস্থ্য সমস্যা, পুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্থানীয় প্রেক্ষাপট-উপযোগী সমাধান উদ্ভাবনে অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের নিজস্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত সমাধান তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

১১. একটি সমতাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা

চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যা সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী, প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম, রোগ প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। স্বাস্থ্যসেবা যেন শহরের ও গ্রামের মানুষ, ধনী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সবার কাছে পৌঁছায়।

বিদেশি ব্যবস্থাকে হুবহু অনুকরণ না করেও বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। সিঙ্গাপুরের দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, জাপানের রোগ প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তরাজ্যের ব্যাপকভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং ভারতের সম্প্রসারমান ডিজিটাল-স্বাস্থ্য উদ্যোগ—এসবের প্রতিটি থেকেই এমন সব ধারণা পাওয়া যায় যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিযোজিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চিন্তাধারার বিকাশের অর্থ হলো 'স্বাস্থ্য' বলতে আসলে কী বোঝায়, সে সম্পর্কে আরও ব্যাপক ও গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা। হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবা অপরিহার্য হলেও, এর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা, পরিবেশ সুরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোর সমন্বয় থাকা জরুরি। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল রোগীদের চিকিৎসা প্রদানই হওয়া উচিত নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগে বাংলাদেশের মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই শক্তিগুলোর সাথে উদ্ভাবনী চিন্তাধারা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, দায়িত্বশীল প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং সমতাভিত্তিক নীতির সমন্বয় ঘটিয়ে দেশটি এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে যা বর্তমান ও ভবিষ্যতের উভয় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। এর মূল নীতিটি হওয়া উচিত সহজ ও স্পষ্ট: একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী কেবল শক্তিশালী স্বাস্থ্যখাতেরই ফল নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

Madrasatun Nur Al Islamiyyah Mossharrof Hossain
Tasneem Sinha
Projapoti Holdings Ltd
Link copied!