ঢাকা : ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদী শাসন’ ইসরায়েলের যুদ্ধমুখী অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় রেখে তারা সবসময় পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, দুদেশের মাঝে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক ঘোষণার ইঙ্গিত মিললেও, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। তারা আগেও বলেছিল, ট্রিগারে হাত রেখেই আলোচনায় বসবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ইরান বলছে, ওই চুক্তির মাঝে যদি আমেরিকা আগ্রাসন চালায়, তবে এর জবাব হবে আগের কোনোবারের চেয়েও অনেক কঠিন।
তাসনিমকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভুল হিসাব করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বা ‘অপরাধমূলক’ কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা ‘ইরানের তৃতীয় ধাপের মোকাবিলার’ মুখে পড়বে।
সূত্রটি দাবি করে, এই নতুন ধরণের মোকাবেলা কৌশল, সামরিক পদ্ধতি, লক্ষ্য এবং ব্যবহৃত সরঞ্জামের দিক থেকে আগের দুই যুদ্ধের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণার এসেছে। পরে তেহরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের তিন জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে।
এদিকে গণমাধ্যমে আরেক খবরে জানা গেছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হতে যাওয়া চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তবে ইরান পাল্টা শর্তও জুড়ে দিয়েছে। রবিবার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করে অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
ইরান জোর দিয়েছে ফ্রোজেন সম্পদের দিকে। সূত্রটি তাসনিমকে জানিয়েছে, ইরান প্রথম ধাপেই তাদের জব্দকৃত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ চায়। পরে সব জব্দকৃত সম্পদ ধাপে ধাপে ও নিশ্চিতভাবে ফেরত দেওয়ার একটি পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছাড়া কোনো চুক্তি করবে না।
বিষয়টি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী এবং আলোচনায় যুক্ত কিছু আঞ্চলিক দেশকে জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখন যুক্তরাষ্ট্র আবার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত করছে। তবে ইরান বলেছে, তারা তাদের ‘লাল সীমা’ (রেড লাইন) থেকে পিছিয়ে আসবে না। সূত্রটি জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অতীতে চুক্তি আলোচনা চলার সময়ে হামলা চালিয়েছে। এর কারণে ইরান এবার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা কাগজে-কলমের আশ্বাস বা অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করতে চায় না। বরং তারা নিশ্চিত ও বাস্তবভাবে সম্পদ মুক্তির নিশ্চয়তা চায়।
এমটিআই
