ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬,
লালমনিরহাটে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

বর্তমান সংবাদ | ওসমান গনি, লালমনিরহাট

জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী (৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে অবরুদ্ধ করে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলিনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ির বাইরে খেলতে বের হয় নন্দিনী। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে কিছু ভুট্টাগাছ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে খেতের ভেতরে একটি গর্তের মধ্যে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নন্দিনীকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা একই গ্রামের বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে (৫৫) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক করে। পরে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তেজিত জনতার কারণে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার ও বিজিবির অধিনায়ক। তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন।

নিহত শিশুর বাবা নলিনী বর্মণ বলেন, "আমার কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার ছোট মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

মা সাবিত্রী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "প্রতিদিনের মতো সেদিনও নন্দিনী খেলতে বের হয়েছিল। কে বা কারা তাকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোর করে নিয়ে গিয়ে এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।"

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, "খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ এবং ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

M. J. Holiday Resort
banner
Link copied!