নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার এক শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক পিতা ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯৯ শতাংশ মিলেছে।
সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন মদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. নূরুল কবির।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখে। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরিবারের সদস্যরা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে র্যাব-১৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়।
এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সভাপতি ও ইসলামী বক্তা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম।
তবে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় যদি নবজাতকের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগরের মিল পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাহলে তাকে জনসম্মুখে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হয়। আমরা চাই রাষ্ট্র এই বিধানটি বাস্তবায়ন করুক।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।
এমটিআই
