ঢাকা : সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দুই বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে হত্যা মামলাসহ সব বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শ্রীলংকা থেকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজেও অংশ নিতে চান তিনি।
সাকিব বলেন, সরকারের কাছ থেকে যদি এই মর্মে আশ্বাস পাই যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তবে আমি সানন্দে ফিরে যেতে, আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে এবং যা করা প্রয়োজন তা করতে প্রস্তুত।
সাকিব বলেন অবসরের জন্য তিনি খুব বেশি দিন অপেক্ষা করবেন না, আমি বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছি। আমি ভালো অনুভব করছি, খেলাটা এখনও উপভোগ করছি এবং ভালো খেলছিও। কিন্তু... এই মুহূর্তে বয়স আমার পক্ষে নেই, তাই আমি খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে পারব না।
তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজকে বলেছেন, তিনি সাকিবের দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না, জাতীয় দলের হয়ে খেলার তো দূরে থাক, তার (সাকিব) ফিরে আসার (এবং দেশের হয়ে খেলার) কোনো সুযোগ নেই। একজন ক্রিকেটারের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি যেভাবে একটি রাজনৈতিক পরিচয় সামনে নিয়ে এলেন, আমার মনে হয় না তার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ আছে। তিনি যখন ফিরবেন, তখন তাকে আইনগতভাবেই সবকিছুর মুখোমুখি হতে হবে।
আমিনুল হক জানান, খেলোয়াড় হিসেবে আমি নিজে এবং বাকি সবাই এ বিষয়ে (সাকিবের মামলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি) যথেষ্ট সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এটার পর, এটি নিয়ে (তার প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করার বিষয়ে) চিন্তা করার আর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। যিনি স্বৈরাচারের মঞ্চে উঠেছেন, তার আর (দেশে ফিরে আসা এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার) কোনো সুযোগ নেই।
বিসিবির বর্তমান পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরও ক্রিকবাজের কাছে একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, আমার মনে হয়, সম্প্রতি তার দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি এক মঞ্চে যোগ দেওয়ার পর থেকে অন্তত ক্রিকেটারের চেয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয়টাই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের (নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের) সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই স্পষ্ট করে দেয় যে, তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে তিনি বর্তমানে কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। তবে একই সঙ্গে আপনাকে প্রতিটি জিনিসের জন্য মূল্য দিতে হবে, এবং তিনি কোন মূল্যটি বেছে নিয়েছেন সে বিষয়ে সবাই পুরোপুরি সচেতন বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিসর্জন দিয়েছেন। এখন আমাদের তাকে একজন ক্রিকেটারের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বেশি দেখতে হবে। আর যদি তাই হয়, তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে হলে তাকে তার সব মামলা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তীতে ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে তার বয়স বিবেচনা করলে, তার আর জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে হয়।
এমটিআই
