ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামের প্রথাগত চিত্র

বর্তমান সংবাদ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামের প্রথাগত চিত্র

ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্র ২০৪৬ সাল নাগাদ এমন একটি দেশে পরিণত হবে যেখানে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে সংখ্যালঘু ও অশ্বেতাঙ্গদের সম্মিলিত সংখ্যা বেশি হবে। তবে দেশটির গ্রামীণ অঞ্চলে প্রাক্কলনের অনেক বছর আগেই সেই মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অভিবাসন এবং অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলের এই পরিবর্তন যেমন সেখানে বৈচিত্র্য ও প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ। উদাহরণস্বরূপ, দ্রুত গতিতে বদলে যাওয়া এসব গ্রামীণ সরকারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত অনুবাদক, দ্বিভাষিক নির্বাচন কর্মী বা অনূদিত উপকরণের তীব্র অভাব রয়েছে, যা নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্কুল, আদালত এবং নির্বাচন কার্যালয়গুলো পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

এই ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনগুলোর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে কানসাস এবং নেব্রাস্কায়, যেখানে মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোতে অভিবাসীরা কাজ করছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ টেক্সাসের হিস্পানিক অধ্যুষিত এলাকায়, দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গপ্রধান এলাকাগুলোতে এবং আলাস্কার আদিবাসী অঞ্চলেও এমন চিত্র দেখা গেছে, যেখানে শ্বেতকায় অধিবাসীদের সংখ্যা মৃত্যু বা স্থানান্তরের কারণে কমে যাচ্ছে। এসব পরিবর্তন গ্রামীণ স্কুল, আদালত, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নির্বাচন কার্যালয়গুলোর ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলোর এমনিতেই তহবিল এবং জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিনের একটি যোগাযোগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাতিল করেছে এবং বৈষম্যবিরোধী কিছু প্রয়োগকারী ব্যবস্থা সংকুচিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির ৪০৩টি কাউন্টি বা প্রশাসনিক অঞ্চল—যা মোট জাতীয় কাউন্টির প্রায় ১২.৮ শতাংশ—ইতোমধ্যে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু’ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ২২১টি গ্রামীণ এলাকা এবং ১৮২টি নগর ও শহরতলি অঞ্চল রয়েছে। এই ২২১টি গ্রামীণ কাউন্টি ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং এদের সম্মিলিত আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। এসব গ্রামীণ কাউন্টির মধ্যে ২০৫টি অঞ্চলেই অধিবাসীর সংখ্যা ৫০ হাজারেরও কম।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক ৫৭টি গ্রামীণ সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু কাউন্টি রয়েছে, যার সবই দক্ষিণ সীমান্ত এবং তেলসমৃদ্ধ প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চলসংলগ্ন হিস্পানিক এলাকা। এরপর মিসিসিপিতে ২৫টি, নিউ মেক্সিকোতে ১৮টি, জর্জিয়ায় ১৭টি এবং আলাস্কায় ১৫টি এমন কাউন্টি রয়েছে। তবে পরিবর্তন কেবল এই অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ-পশ্চিম ক্যানসাসের সিওয়ার্ড কাউন্টিতে ২০০০ সালে শ্বেতকায় জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ; বর্তমানে সেখানকার ৭৩ শতাংশ মানুষই অশ্বেতকায়। কাছাকাছি ফোর্ড এবং ফিনি কাউন্টিতেও একই ধরনের ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন দেখা গেছে।

সব গ্রামীণ কাউন্টিতে জনসংখ্যাগত রূপান্তরের কারণ কিন্তু এক নয়। মিডওয়েস্ট এবং সাউথওয়েস্ট অঞ্চলের কাউন্টিগুলোতে মূলত অভিবাসন এবং উচ্চ জন্মহারের কারণে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এবং অ্যাপালেচিয়ান অঞ্চলের কাউন্টিগুলোতে অশ্বেতাঙ্গদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গদের মৃত্যুহার বেশি অথবা তারা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

অ্যাক্সিওসের এই বিশ্লেষণে ২০২০ সালের আদমশুমারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২০২৩ সালের রুরাল-অর্বান কন্টিনিউয়াম কোড ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণে কোনও কাউন্টিতে নন-হিস্পানিক শ্বেতাঙ্গ অধিবাসীদের সংখ্যা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে তাকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বর্ধনশীল হিস্পানিক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় পোল্ট্রি শিল্পপ্রধান শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক অ-ইংরেজিভাষী মানুষ বসবাস শুরু করেছেন। কিন্তু আদালত বা ভোটকেন্দ্রে তাদের জন্য দ্বিভাষিক ব্যালট, কর্মী বা অনুবাদক সরবরাহের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট-এর ধারা ২০৩-এর অধীন কেন্দ্রীয় ওয়াচডগগুলো একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার সীমার ওপর ভিত্তি করে সুবিধা প্রদান করায় বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা ভাষা-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো এসব পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইউসি-ডেভিসের আইনের  অধ্যাপক ও গ্রাম-শহরের বৈষম্যবিষয়ক গবেষক লিসা আর প্রুইট অ্যাক্সিওসকে বলেন, গ্রামীণ ও ছোট স্থানীয় সরকারগুলো পরিষেবা দিতে এমনিতেই হিমশিম খায়। তিনি উল্লেখ করেন যে যেসব অঞ্চল আগে থেকেই মৌলিক পরিষেবা প্রদানে সংগ্রাম করছিল, সেখানে যখন হঠাৎ করে অনুবাদক, অনূদিত উপকরণ এবং বহুভাষিক যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়, তখন চাপটা বহুলাংশে বেড়ে যায়। বিশেষ করে আদালতের অনুবাদক এবং যে কোনও ধরনের জনস্বাস্থ্য তথ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

banner
M. J. Holiday Resort
Tasneem Sinha
Link copied!