ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

মার্কিন হামলার পরই ইরানের ভয়ংকর পাল্টা জবাব

বর্তমান সংবাদ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

মার্কিন হামলার পরই ইরানের ভয়ংকর পাল্টা জবাব

ঢাকা : দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত জুলাই মাসের শেষভাগের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি এমন বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটল। খবর আলজাজিরার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা রবিবার (৩০ আগস্ট) এই হামলা পরিচালনা করে। ‘শাস্তি’ নামের এই সম্মিলিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের কিং হুসেইন এবং আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটির কারিগরি ও মেরামত অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, জর্ডান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দিয়েছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এসব ঘাঁটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘হুমকি ও আক্রমণ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা যাবে না। প্রতিটি হামলার জবাব আরও ধ্বংসাত্মকভাবে দেওয়া হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সামরিক কমান্ড (সেনটকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে মাইন বসাতে না পারে, সেজন্য তারা রবিবারে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট’ পদক্ষেপ নিয়েছিল। এতে কোনো আগ্রাসন চালানো হয়নি বলে দাবি করে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন-সিয়োনবাদী শত্রুদের হামলায় ইরানের কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরুর আজ সপ্তম মাস চলছে। এতদিন ধরে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কৌশল নিলেও রবিবারের হামলা প্রমাণ করে তারা এখনও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ সুরক্ষিতভাবে পার করে দিচ্ছে, কিন্তু ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে প্রতিনিয়ত সংঘাতের খবর আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা অব্যাহত থাকবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহের দাবিকে বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন মার্কিন একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা ও বাজারে প্রভাব ফেলার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বিশ্বব্যাপী হু-হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় তা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

Madrasatun Nur Al Islamiyyah Mossharrof Hossain
Tasneem Sinha
Projapoti Holdings Ltd
Link copied!