ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল আবুল কা‌শেম স্যারের মহাপ্রয়াণ 

বর্তমান সংবাদ | কাজী হাসান 

আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল আবুল কা‌শেম স্যারের মহাপ্রয়াণ 

সরকা‌রি হরগঙ্গা ক‌লে‌জের কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল, প্রফেসর আবুল কা‌শেম

ঢাকা : সরকা‌রি হরগঙ্গা ক‌লে‌জের কিংবদন্তী প্রিন্সিপাল, প্রফেসর আবুল কা‌শেম স্যার আর নেই। ঢাকার মিরপুর ১১ নম্ব‌রে অব‌স্থিত ইসলামী ব্যাংক কা‌র্ডিয়াক হস‌পিটা‌লে আজ বেলা ১২ টায় তি‌নি ইন্তেকাল  ক‌রেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর জামাতা এম এ বা‌তেন এই খবর নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। তাঁর বয়স হ‌য়ে‌ছি‌লো ৮৫ বছর। মৃত্যুকা‌লে তি‌নি স্ত্রী, এক কন্যা সিলভী কা‌শেম, জামাতা এম এ বা‌তেন, দুই নাতনী আনিসা রাইদা সিমনা, আনিসা ফা‌বিহা সামান্থা, ভাই বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-প‌রিজন,  সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধাযায়ী রে‌খে গে‌ছেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজ‌দিখান উপ‌জেলার বা‌হেরঘাটা গ্রা‌মে তি‌নি ১৯৪১ সা‌লের ২৬ ফ্রেব্রুয়া‌রি জন্মগ্রহণ ক‌রেন। তাঁর শেষ আবাসস্থল ছি‌লো ঢাকার পল্লবী‌তে। 

এক জীবনে আবুল কাশেম স্যার 

আমি যখন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ছাত্র তখন আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন আবুল কাশেম স্যার। একজন দক্ষ অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ছিলেন প্রকৃতই একজন সদয় মানুষ। ১৯৯০ সাল থেকে তার পরবর্তী ছয় বছর তিনি আমাদের কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হয়। তিনি আমাদের মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কৃতি সন্তান। এবার অন্য একটি প্রসঙ্গ ধরে মূল বিষয়ে আসি।

অমর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ যখন ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন তখন তাঁর সরাসরি শিক্ষক ছিলেন আবুল কাশেম স্যার। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো ১৯৯৩ সালের ১৯ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জে আমার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বরেণ্য ছাত্র-শিক্ষকদ্বয়কে অতিথি করার। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্র বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, তাঁর শিক্ষক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্যার ছিলেন বিশেষ অতিথি। তাঁরা যে ছাত্র-শিক্ষক সেদিনই আমি জেনেছি। ১৯৯২ সালের ১৩ নভেম্বর আমি প্রিয় লেখকের নামে মুন্সীগঞ্জ শহরে ‘হুমায়ূন আহমেদ পাঠক সংসদ’ নামে একটি ভক্ত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলাম সমমনাদের নিয়ে।

মহান শিক্ষক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্যারের কাছ থেকে একবার কঠিন একটি ধমক খেয়েছিলাম আমি। তাঁর রুম থেকে আমাকে বের করে দিয়েছিলেন। যে বছর আমি বিএ পরীক্ষার্থী, আমার ফরম ফিলআপ আটকে গেলো শ্রেণিতে কম উপস্থিতির কারণে। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের তখনকার ছাত্র সংসদের ব্যায়ামাগার সম্পাদক শওকত আমার বন্ধু। যদিও আমার জুনিয়র ছিলো সে। তাকে বললাম, তোমাকে কাশেম স্যারের কাছে নিয়ে যাবো। স্যারকে রিকোয়েস্ট করবে, আমাকে ফরম ফিলআপ এর অনুমতি যাতে দেন। আমার হাতের সুন্দর লেখায় একটি আবেদনপত্র সমেত শওকতকে নিয়ে এক সকালে দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে কাশেম স্যারের রুমে ঢুকি। আবেদনপত্রটি তাঁর হাতে দেই। তিনি তা পড়ে তৎক্ষণাৎ ছুঁড়ে ফেলেন কক্ষের মেঝেতে এবং আমাকে বের হয়ে যেতে বলেন। আবেদনপত্রটি তুলে নিয়ে আমরা বের হওয়ার পরে শওকত আমাকে হতাশ মুখে বললো, কাশেম স্যার এতো ক্ষেপে যাবেন বুঝতে পারিনি। এখন একমাত্র উপায় ভাইস প্রিন্সিপাল কুদ্দুস স্যার। তিনি আরও রাগি মানুষ। আপনাকে ভুলেও ফরম ফিলআপের অনুমতি দেবেন না। আপনি একাই তাঁর রুমে যান, আমি যেতে পারবো না। বাইরে নারিকেল গাছ ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছি আমি।

পাশেই কুদ্দুস স্যারের রুম। ভীত সন্ত্রস্ত মনে স্যারের রুমে ঢুকি আমি। তাঁর হাতে দরখাস্তটি দেই। তিনি তা পড়ে আমাকে অবাক করে দিয়ে হেসে বলেন, এতো সুন্দর তোমার হাতের লেখা! ক্লাস করোনি কেনো? বলেই তিনি আবেদনপত্রটিতে অনুমতি লিখে দিলেন। জানালা দিয়ে কালো সানগ্লাস পড়া শওকতকে দেখা যাচ্ছিলো, নারিকেল গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। অপেক্ষা করছে আমার ভয়াবহ পরিণতির সংবাদ শোনার জন্য। হাস্যোজ্জ্বল মুখ আমি আড়াল করে কুদ্দুস স্যারের রুম থেকে বেরিয়ে বিষাদ বদনে শওকতের সামনে যাই। সে আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো, আমি আগেই বলেছিলাম কুদ্দুস স্যার পারমিশন দেবেন না। আগামী বছর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। আমি শওকতকে বললাম, গৌরাঙ্গদার কাছে চলো (তিনি আমাদের কলেজের ক্লার্ক)। শওকত জানতে চাইলো কেনো? আমি বললাম, ফরম ফিলআপের টাকা জমা দেবো না? ততোক্ষণে শওকতের ভ্রূ কপালে উঠে গেছে!

ফেইসবুকে কাশেম স্যারের কন্যা সিলভীর সঙ্গে আমি যুক্ত হই। শিক্ষক কন্যা হলেন আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড। কাশেম স্যারকেও ফেইসবুকে পেয়ে যাই। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। তিনি জেনেছেন পরিবেশের পক্ষে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছি আমি। কিন্তু এটা আমি কখনও বুঝতে দেইনি, আমি সেই ধমক খাওয়া কাজী হাসান। যদিও আমার কথা স্যারের মনে থাকার কথা না। যাই হোক, এক নতুন কাজী হাসান হিসেবে স্যারের ঢাকার পল্লবীর বাসায় গেলাম ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ৮৩তম জন্মবার্ষিকীর দিন। সঙ্গী ছিলো ওই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ফ্যাশন ডিজাইনার সোনিয়া সনি। সেদিনও একটি আবেদনপত্র ছিলো আমার হাতে। আমাদের ‘সোনারং তরুছায়া’র পাঠাগারের একটি সেকশন তাঁর নামে করার ইচ্ছে, লেখা ছিলো সেই আবেদনপত্রে। পত্রটি স্যারের হাতে দেয়ার পরে স্যার বিস্মিতকণ্ঠে বললেন, এটা তোমার হাতের লেখা! আমি মনে মানে বললাম, এই লেখাই একদিন আপনি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। স্যার আমার আবেদনে সেদিন সম্মতি প্রদান করেছিলেন। ফেরার সময় স্যার বলেন, তোমাদের কুদ্দুস স্যারের সঙ্গে দেখা করবে না? আমি কৌতূহলী হয়ে জানতে চাই, কুদ্দুস সারকে পাবো কোথায়? প্রতিত্তরে কাশেম স্যার সামনের খোলা দরজার ডানদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পাশের ফ্লাটে তিনি থাকেন। কি বিস্ময়কর মিল!!! সরকারি হরগঙ্গা কলেজে অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্যারের পাশের রুমে উপাধ্যক্ষ কুদ্দুস স্যার বসতেন। অবসর জীবনে কাশেম স্যারের পাশের নিজের ফ্লাটে তিনি থাকেন। তৎক্ষণাৎ কাশেম স্যার জানালেন, ওহহো, কুদ্দুস তো অসুস্থ! যে কারণে সেদিন কুদ্দুস স্যারের সঙ্গে আর দেখা করা হলো না। তিনি বছর দু’য়েক আগে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ১৯৮০ সালের ১ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ছিলো এটি কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসীর জন্য অন্যতম বড় একটি সুখবর! ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হলেও অনার্স কোর্সটি চালু করতে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্যারকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে দীর্ঘদিন ফাইলের পেছনে ঘুরতে হয়েছে। সে সময় তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮জন শিক্ষকও নি‌য়োগ হয়!

অধ্যক্ষ আবুল কাশেম নিজেও সরকারি হরগঙ্গা কলেজ-এর প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি সরকারি হরগঙ্গা কলেজে “অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্কলারশিপ” প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি এমন অবদান রাখার উদাহরণ সত্যিই বিরল। তিনি ২৮ বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন।

অধ্যাপক আবুল কাশেম স্যারের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাহেরঘাটা গ্রাম, সিরাজদিখান উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ জেলায়। পরবর্তীতে তাঁর বাবা, মো. শামসুদ্দীন মিয়া, রায় বাহাদুর যোগেশ চন্দ্র ঘোষের পুত্র রায় বাহাদুর প্রফুল্ল কুমার ঘোষের পাউলদিয়া গ্রামের বাড়িটি ক্রয় করেন। রায় বাহাদুর প্রফুল্ল কুমার ঘোষ গাজীপুর ভাওয়াল স্টেট-এর ম্যানেজার ছিলেন। তার কন্যা ছিলেন বাংলা সঙ্গীত জগতের একসময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী উৎপলা সেন। তাঁর স্বামী ছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। আবুল কাশেমকে তাঁর পিতা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির পর লৌহজংয়ের কাজির পাগলা হাই স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করেন ঢাকায়। তিনি যখন ঢাকায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তাঁর ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, সঙ্গীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ এবং চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনসহ বর্তমান ও অতীতের বহু গুণী ব্যক্তিত্ব।

স্যারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সর্বোচ্চ ভবনটির নামকরণ করা হয় ‘প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম প্রশাসনিক কাম অ্যাকাডেমিক ভবন’। এজন্য বর্তমান পিন্সিপাল প্রফেসর নাজমুন নাহার এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গত ২৪ জানুয়ারি সরকারি হরগঙ্গা কলেজ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত প্রথম ‘শিক্ষার্থী পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে স্যারকে সম্মাননা জানানো হয়। এ জন্য সংগঠনে সম্মানিত আহ্বায়ক আলমগীর কবির ভাই ও প্রফেসর আবু আহমদ আহসান কবির চঞ্চল ভাই ও তৎকালীন প্রিন্সিপাল প্রফেসর নাজমুন নাহার আপার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গত ২৬ ফেব্রুয়া‌রি ৮৫তম জন্মবার্ষিকী‌তে স্যা‌রের ওপর আমার সম্পাদনায় 'ব‌রেণ্য মহান শিক্ষক অধ্যক্ষ আবুল কা‌শেম' প্রকা‌শিত হয়। ২০২৪ সা‌লের ৫ অ‌ক্টোবর 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' এ আমার প‌রিচালনায় আমা‌দের 'সোনারং ভিজ্যুয়াল আর্টস' থে‌কে স্যা‌রের ওপর 'যদ্য‌পি আমার গুরু' না‌মে এক‌টি ডক্যু‌মেন্টা‌রি প্রকাশ ক‌রি।

স্যা‌রের না‌মে ভবন উদ্বোধনসহ তি‌নি অ‌তি‌থি হ‌য়ে‌ছেন এমন তিন‌টি অনুষ্ঠা‌নে গত বছর স্যার আমা‌কে আমন্ত্রণ জা‌নি‌য়ে‌ছেন বিধায় গত বছর বহু‌দিন প‌রে আমি আমার প্রিয় ক্যাম্পা‌সে পা রা‌খি। ‌বলা যায় স্যা‌রের কার‌ণে প্রিয় সরকা‌রি হরগঙ্গা ক‌লে‌জের স‌ঙ্গে আমার আবার আত্মিক সম্পর্ক তৈ‌রি হয়। এম‌নি‌তে আমি এই ক‌লে‌জের ওপর প্রতিষ্ঠা বা‌র্ষিকী‌তে ক‌য়েক বছর ধ‌রে স্থানীয় দৈ‌নি‌কে লি‌খে আস‌ছিলাম। সম্পর্কটা গাঢ় হওয়ার কার‌ণে সরকা‌রি হরগঙ্গা ক‌লে‌জ অ্যালামনাই এসো‌সি‌য়েশন এর প্রথম শিক্ষার্থী পুন‌র্মিলনী অনুষ্ঠা‌নের আহ্বায়ক আলমগীর ক‌বির ভাইয়ের আহ্বা‌নে ওই অনুষ্ঠা‌নের জন্য হরগঙ্গা ক‌লে‌জের ওপর ক‌য়েক‌টি ডক্যু‌মেন্টা‌রি তৈ‌রি ক‌রে‌ছিলাম।

লেখক : গবেষক ও পরিবেশবিদ, নির্বাহী পরিচালক ও সোনারং তরুছায়া

বর্তমান সংবাদ

banner
M. J. Holiday Resort
Tasneem Sinha
Link copied!