ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬,

বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমার প্রথম দেখা

দৈনিক সবুজ নিশান | নুরজাহান বেগম হ্যপী

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৫:০০ পিএম

বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমার প্রথম দেখা

ঢাকা : বেগম জিয়াকে নিয়ে শৈশবের একটি আনন্দঘন স্মৃতি মুহূর্তের কথা মনে পড়ে আজ দু’চোখের কোল বেয়ে শুধু অশ্রুই ঝরে পড়ছে। কান্না যেন বাঁধ মানছে না কোন কিছুতেই। 

১৯৮২ সাল আমি নয় বছরের মেয়ে। আমার বাবা মরহুম দেওয়ান আব্দুল হামিদ সাহেব ছিলেন জয়পুরহাট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বেগম জিয়ার জয়পুরহাটে আগমন উপলক্ষে পুরো জয়পুরহাট এবং সমাবেশ স্থল ডিগ্রী কলেজ মাঠ বর্ণনাট্য সাজে সজ্জিত করা হলো। 

সবকিছু মনে নেই আমার।শুধু এটুকুই মনে আছে জয়পুরহাট সুগার মিল গেস্ট হাউস যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্রাম নেওয়ার জন্য স্থান ঠিক করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় আমার মা আমাকে এবং আমার নানি সহ বাড়ির সদস্যদের কে নিয়ে যাওয়া হলো বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে।

বহু মানুষের সমাগম, তিল ধারণের ঠাঁই নাই সেখানে। তার মধ্যে বিশেষ সুবিধায় আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো বেগম খালেদা জিয়ার সামনে। আমার মা হাত মেলালেন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। আমিও আমার ছোট হাতটি বাড়িয়ে দিলাম।পরম আদরে তিনি আমার ছোট্ট হাতটি স্পর্শ করলেন। আমার খুব মনে আছে সেই স্পর্শের কথা। জীবনে বহু বার এ গল্প বলেছি অনেকের কাছে। মনে হয়েছিল যেন বেগম জিয়ার হাত একটা শ্বেত শুভ্র সাদা নরম কাপড়।

এরপর!!
আমি যখন বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী তখন জয়পুরহাটে পাঁচবিবিতে ওনার জনসভায় উনাকে দেখলাম প্রাণ ভরে। তারপর বগুড়ার জনসভায় বেগম জিয়াকে আমি দেখি খুব কাছে থেকে। গাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম গাড়ির গ্লাসটা নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম বেগম জিয়ার মুখটি একটি ফুটন্ত গোলাপের ন্যায়।

২০০৮ সাল আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন। আমার বাবা মরহুম দেওয়ান আব্দুল হামিদ সাহেব বিএনপি পার্টি অফিসে অবস্থান কালে সেখানে বোমা হামলা হয়।মৃত প্রায় অবস্থায় জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা খুব সংকটাপন্ন ভেবে ঢাকা রেফার্ড করা হয়।সে সময় আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন আব্বা কে সু-চিকিৎসার জন্য দ্রুত কোলকাতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। তখন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম গুলশান পার্টি অফিসে।

রাজনৈতিক কাজে জীবনে বহুবার উনাকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। কখনো গুলশান কার্যালয়ে কখনো সরওয়ার্দী উদ্যানে আবার কখনো রাজশাহী রংপুর ঠাকুরগাঁও জনসভায়।

বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল দৃঢ় কন্ঠে।
কখনোই তিনি কোন অশালীন ভাষা ব্যবহার করতেন না। কোন হিংসা বা আক্রমণাত্মক বাক্য উচ্চারণ করতেন না। কোনদিন ও নেতা কর্মীদের কে উষ্কানি মূলক কথা বলতেন না। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত যে কোন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দিতেন। কোন ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করতেন না।

তিনি ছিলেন মহীয়সী নারী। আপোষহীন দেশনেত্রী হিসেবে সারা বিশ্বে নাম আছে একমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার। কিংবদন্তী এই গনতন্ত্রের মা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মানুষ তাকে স্বরণ করবেন পরম ভালোবাসায়।

আজ শেষ বিদায়ে সারা বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষ কে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে তিনি চলে গেলেন আল্লাহর ডাকে। 

বিদায় বেলায় কায়মনে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করি ইয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি ওনার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন। এবং দুনিয়ায় যখন উনি বেঁচে ছিলেন সর্বোচ্চ সম্মান নিয়েই ছিলেন। মৃত্যুর পরে ওনার কবরে বেহেস্তের সুখ শান্তি আলো বাতাস সব কিছু দান করুন আল্লাহ পাক। এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সম্মানিতা হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে কবুল করুন।
আমীন।

লেখক : সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য, জয়পুরহাট জেলা মহিলা দলের সদস্য
দুইবার নির্বাচিত সাবেক কাউনসিলর জয়পুরহাট পৌরসভা

দৈনিক সবুজ নিশান

Royal Haven Hotel
Link copied!